প্রেম এবং রাজনীতির এক দূরান্ত কাহিনী। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সোনালী সময়গুলোর উপর কাব্যিক পরশ। (রোমান্টিকপ্রেমের উপন্যাস) ক্যাম্পাস- প্রেম হুমায়ূন কবীর,মাসয (১) তুমি চলে গেছো। এখনো সমস্ত ঘরে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। আমি জল পদ্মের ঘ্রাণ পাচ্ছি, তোমার শরীরের ঘ্রাণ। মনে হচ্ছে এইতো তুমি, আমার পাশে মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছ। ঘাড় ঘোরালেই দেখতে পাব। আশায় বুক বেধে বার বার ঘাড় ঘোরাচ্ছি আর বার বার বিফল হচ্ছি। তুমি নেই তুমি চলে গেছো। টেবিলের উপর ফুল গুলি পড়ে আছে। আজ আমার সেই সমস্ত দিনগুলির কথা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে। আর কষ্টের নোনা জলে চোখ ভিজে যাচ্ছে। এই তো সেদিনের কথা। হাত বাড়ালেই ছুয়ে দেখা যায়। অথচ দেখতে দেখতে কতগুলো বছর কেটে গেছে। তুমি আজ ঢাকা ভার্সিটির 'ল' ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। তোমার সামনে উজ্জ্বল তারকা খচিত দিন। আর আমার চারপাশ অন্ধকার, শুধু অন্ধকার। কেন তুমি আমাকে এভাবে কাঁদালে? আমার সামনে এখন এম, এম কলেজের সেই সুখ স্মৃতিময় দিনগুলি। সেই সুখ স্মৃতি যেন এসিড। প্রচন্ড তৃষ্ণা নিয়ে যত পান করছি ততো জ্বলছি। দেহমন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।...
পাগলা সন্ধ্যা, নীল চাঁদ হুমায়ূন কবীর, মাসয ২৯/৪/২৬ আমি মরে যাবো এ কথা সত্যি। তুমি মরে যাবে এ কথাও সত্যি। কিন্তু - আমি তোমার আমার মৃত্যুর কথা বলছিনে। আমি বলছি, এই নরম ভিজে ভিজে বৈশাখের পাগলা সন্ধ্যা খুক করে কেশে উঠে তারপর - অবিরত কাশতেই থাকবে শীর্ণ বৃদ্ধের মতো সহসা? ওরও কি বয়স হয়ে এলো? অতি দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে, তোমার আমার মৃত্যুর আগেই মরে যাবে না তো সে? এশিরিয়ো ধুলো হলো ব্যবিলনও হলো ছাই। সেটাই কি দারুণ স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের অসভ্য সভ্যতার আয়ু বাড়াতে যেয়ে দূষণে দূষণে ফুসফুস পঁচে মরে যাবে কি নরম চাঁদের আলো, গোলাপের প্রেম প্রেম সৌরভ? আমাদের উত্তর থেকে উত্তরতররা পাবে কি কাব্যিক চোখ, কাঁঠালের গন্ধে মাতাল তুমুল ইন্দ্রিয় ঝড়? কবে তথাকথিত সভ্যতার কুলখানি হবে? বারুদের গন্ধহীন বুনো পৃথিবীর বুকে পাথুরে মঙ্গল থেকে বহুদূরে পুরনো পরিচিত আকাশে যদি ওঠে নীল চাঁদ আবার তুমি আমি নাহয় না পেলাম তার দেখা, আমাদের রক্ত লতিকা তো খুঁজে পাবে যে পৃথিবীর স্বপ্ন বুকের আলমারিতে সাজিয়ে রাখি তুমি আর আমি - ...
আজ বুধবার, পর্ব২ হুমায়ূন কবীর মাসয মিঠাইমনি বাজারে সবচেয়ে বড় দোকানটি মতি মাস্টারের।দোকানের নাম" মা ভ্যারাইটি স্টোর"। মায়ের প্রতি তার অগাধ ভক্তি। লোকে বলে,মা'কে ছেড়ে থাকতে না পেরে সে মেডিক্যালে পড়া বন্ধ করে বাড়ি ফিরে এসেছে। তার হওয়ার কথা ছিলো ডাক্তার। সে হয়েছে মুদি দোকানদার। তাতে তার কোনো আফসোস নেই। সে মনের সুখে মহা আনন্দে এই অজপাড়া গায়ের ছোট্ট বাজারে দোকানদারি করছে।আর বুধবার মাস্টার সেজে ভাইপো দুটোকে মনের স্বাদ মিটিয়ে ঠ্যাঙাচ্ছে। আছরের নামাজ শেষ হয়েছে। মা ভ্যারাইটি স্টোরে খুব বেচাকেনার ভিড়।কাদের আর আরিফ দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে বাদাম খাচ্ছে। খট,খটাখট।খট,খটাখট। ও,ভাই!ছোলা আছে,ছোলা? মতি মিয়া ওজনের জন্য দাঁড়ির উপর জিরা রাখছিলো। ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হয়ে তাকালো রাস্তার দিকে।বেঞ্চে বসে আছে কাদের, আরিফ। আজ মিঠাইমনি হাটবার।বাজার করে দিলে ওরা বাড়ি নিয়ে যাবে। হাটবার বলে রাস্তার উপর লোকের ভিড়।ভিড়ের ভিতর একটা লাল রংয়ের তেজি ঘোড়া দাঁড়িয়ে। ঘোড়ার উপর পুচকে একটা ছেলে- আরিফের বয়সী। ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠ তারই। মতি মিয়া বিরক্ত হয়ে একবার তাকালো। তারপর জিরা ওজনে মন দিলো।র...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন